Things To See In Brussels, Belgium In A Day \\ Muslim Traveler – The Travels Of Z (2019)


আসসালামু আলাইকুম দর্শকবৃন্দ, আমি Z, কথা বলছি বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস থেকে। ২য় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ব্রাসেলস আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ন্যাটো, দুটিরই সদর দপ্তর এই শহরে তবে আমরা সে কারণে এখানে আসিনি অনেক ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জায়গার জন্যও ব্রাসেলস সুপরিচিত, যার বেশ কয়েকটি পেয়েছে ‘ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ এর সম্মান দেখা যাক আজকের দিনে ব্রাসেলসের কতটুকু দেখে শেষ করা যায়, চলুন শুরু করি! তো প্রথম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা খুঁজে পেতে আমাদের বেশিদূর যেতে হয়নি এ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি ‘পার্ক ডু সেনকুয়েনটেনারি’তে যদি বেলজিয়ান শব্দগুলো ভুল বলে থাকি, আমি ক্ষমাপ্রার্থী, আমি এখনো শিখছি যাহোক ‘পার্ক ডু সেনকুয়েনটেনারি’ মানে – অর্ধশতবার্ষিকীর পার্ক আমার পেছনে যে তোরণ দেখতে পাচ্ছেন, এগুলোকে বলা হয় – বিজয়ের তোরণ। পুরো জায়গাটি রাজা ২য় লিওপোল্ডের তত্ত্বাবধানে বেলজিয়ামের স্বাধীনতার অর্ধশতবার্ষিকী উপলক্ষে নির্মিত হয়। এবং বর্তমানে এটি একটি জাদুঘর। (ব্রাসেলসের কেন্দ্রীয় মসজিদ) (ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সদর দপ্তর) প্রায় প্রত্যেকটা দেশেরই বিখ্যাত কোনো খাবার আছে মেক্সিকোর আছে বরিতো, সুইজারল্যান্ডের আছে চকোলেট আর বেলজিয়ামের আছে – ওয়াফল! আর আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে ওয়াফল বিক্রির ভ্যান আপনারা জানেন আমি কি করবো… বন্ধুরা, এই হচ্ছে চকোলেট মাখানো বিখ্যাত বেলজিয়ান ওয়াফল এমন না যে আমার আরো ক্যালরি দরকার, তবে…ব্যাপার না 😉 আর এই হচ্ছে ব্রাসেলসের রাজকীয় প্রাসাদ খাতাকলমে এটিই রাজা ও রানীর বাসস্থান,
তবে তারা এখানে থাকেন না শহরের বাইরে ল্যাকেন নামের আরেকটি প্রাসাদে তারা বসবাস করেন। তাদের যদি কোনো সরকারি কাজ পরে যায়, তখন তারা এখানে আসেন ব্যাবস্থা তো ভালোই! তাদের একজন পূর্বপুরুষ আছে যার নাম লিওপোল্ড, যাকে আমি একেবারেই পছন্দ করি না কারণটা খুলে বলছি, তবে তার আগে চলুন তাকে খুঁজে বের করি হ্যা, এটাই রাজা দ্বিতীয় লিওপোল্ড এবং আমি তাকে মনে প্রাণে ঘৃণা করি! তবে আমার সম্পর্কে খারাপ মনোভাব পোষণ করার আগে, আমাকে বলতে দিন কেন… মানবিক সাহায্যের আড়ালে রাজা দ্বিতীয় লিওপোল্ড কঙ্গোর মানুষকে কঠোর পরিশ্রম করতে বাধ্য করেছিলেন (১৮৮৪-১৯০৮) এতটাই বর্বরতার সাথে যে, কঙ্গোর লক্ষ লক্ষ মানুষ রোগে-শোকে, অভুক্ত থেকে ও অত্যাচারে মারা যায়। আদিবাসীদের স্বর্ণ খনিতে কাজ করতে বাধ্য করা হয়, দাঁতের জন্য হাতি শিকার করানো হয় এবং রাবার চাষের জন্য কয়েকশো মাইল জঙ্গল সাফ করানো হয় সেসময় স্বর্ণ, হাতির দাঁত ও রাবার ছিল সবচেয়ে মূল্যবান পণ্য আর কঙ্গোর মানুষ তাদের জীবনের বিনিময়ে এই মূল্য পরিশোধ করেছে তো যখন রাজা লিওপোল্ড ও বেলজিয়াম কঙ্গোর সম্পদ লুটপাট করে নিজেদের পুঁজি বাড়িয়েছে একই সময়ে অমানবিক ইউরোপিয়ান উপনিবেশনের কারণে কঙ্গো হারিয়েছে প্রায় ১৯ মিলিয়ন জীবন এই বেদনা আজও তাদের তারা করে ফেরে এবার বুঝলেন আমি কেন তাকে পছন্দ করি না? কোন এক অদ্ভুৎ কারণে এই লোক ইতিহাসের পাতা থেকে একেবারেই গায়েব আপনাদের কথা জানিনা তবে ব্যাক্তিগতভাবে আমি ব্যাচেলর্স ডিগ্রি শেষ করার মাত্র কিছুদিন আগে এর সম্পর্কে জানি অবাক লেগেছিলো এই ভেবে যে, এতো বড় একটা ব্যাপার অথচ আমার একেবারেই জানা ছিল না যা বলছিলাম লিওপোল্ড সম্পর্কে আমরা কিন্তু তেমন একটা শুনতে পাইনা, যদিনা আপনি আলাদাভাবে খুঁজে দেখেন মনে প্রশ্ন জাগে – এর পেছনে কারণ কি? সবাই হিটলারকে ঘৃণা করে এবং তার কর্মের কারণে এটা তার প্রাপ্য কিন্তু এই লোকটা হিটলারের দ্বিগুন পরিমান মানুষ খুন করেছে, কিন্তু কেউ তার সম্পর্কে বলেনা আর বেলজিয়ামে আপনি ঝলমলে, চোখ ধাঁধানো যা কিছুই দেখেন না কেন, এসব কিছুই কিন্তু কঙ্গো থেকে লুটে নেওয়া সম্পদ থেকে এসেছে কিন্তু শুধু কঙ্গোর দিকে নয় আপনি আফ্রিকার দিকে তাকান, কেবল বিধ্বস্ততা দেখতে পাবেন যদিও প্রাকৃতিক সম্পদের দিক দিয়ে আফ্রিকা এগিয়ে তবু অন্যরা সব শুষে নেয়ায় তারা এগোতে পারছেনা জার্মানিতে যা ঘটেছে সেজন্য তারা লজ্জিত আর পাপমোচনের সব চেষ্টাই করছে আর বেলজিয়ামে, রাজা লিওপোল্ডকে মহিমান্বিত করা হয়েছে এতটাই যে, তা দেখে ঘেন্না লাগে আমার স্ত্রী সবসময় আমাকে বলে এসব নিয়ে কথা না বলতে কারণ আমি খুব দ্রুত রেগে যাই কিন্তু আমার মনে হয় আমার বলা উচিত কারণ আমি অন্য দশজন ব্লগারদের মতো হতে চাইনা যারা শুধু আলগা, খাতির জমানো টাইপ আলাপ করে শুধু বাইরের জাকজমক দেখে চলে গেলে কিভাবে, এগুলোর আড়ালে লুকিয়ে থাকা কথাগুলোও তো বলা উচিত আমার তো এই কথাগুলোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় শুধু এটুকুই বলতে চেয়েছিলাম কথা বলছি ব্রাসেলসের ‘গ্রান্ড প্লেস’ বা ‘গ্রান্ড স্কোয়ার’ এর ঠিক মাঝখানে দাঁড়িয়ে বলা হয়ে থাকে এটিই পুরো বেলজিয়ামে ট্যুরিস্টদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় জায়গা, বুঝতে পারছি কেন… কেউ কেউ বলে এটি ইউরোপের সবচেয়ে সুন্দর স্কোয়ার আমার ব্যাক্তিগত মত – এখন পর্যন্ত দেখা স্কোয়ারগুলোর মধ্যে ওয়ার-স (পোল্যান্ড) এর পরে এটাই সবচেয়ে সুন্দর আর এর প্রধান কারণ আমার চারপাশের দালানগুলোর স্থাপত্যশৈলী যা আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আর অকারণেই ১৯৯৮ সাল থেকে এই জায়গাটিকে ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের মর্যাদা দেয়া হচ্ছে গতরাতে আমি এখানকার ভবনগুলোর ছবি ঘাঁটছিলাম, দেখি এখন কয়েকটা চিনতে পারি কিনা.. এটি হচ্ছে ব্রাসেলসের নগর ভবন এর উচ্চতা ৩১৫ফুট এবং এর চূড়ায় আছে সেইন্ট মাইকেলের ড্রাগন বধের মূর্তি আর এই ভবনটির নাম “রাজার দালান”, কেউ কেউ “রুটির দালান” বলেও ডাকে ঘটনা কি? এখানে কি রাজা মশাই রুটি বানাতেন? যাহোক বর্তমানে এটি ব্রাসেলস সিটি মিউজিয়াম এই ভবনগুলোকে একত্রে ডাকা হয় – “গ্রান্ড প্লেসের বাড়ি’ নামে এই ছয়টি বাড়ি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ধ্বংস হয়ে গেলে, যুদ্ধের পর পুনঃনির্মান করা হয় আর আমার পেছনের দুটি ভবনের কথা একেবারেই মনে নাই, এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণও না কারণ আমাদের এখনই এখন থেকে যেতে হবে, যে কোনো মুহূর্তে বৃষ্টি শুরু হবে আর আমাদের এখনো অন্তত আরো দুটি জায়গায় যেতে হবে এই মূর্তিটির নাম “মানেকেন পিস্”, আপনি বেলজিয়ামের যেখানেই যান না কেন এই মূর্তিটির রেপ্লিকা দেখতে পাবেন কোনো এক উদ্ভট কারণে এটি বেলজিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর একটি মানেকেন পিস্ এর অর্থ – “মূত্র বিসর্জনকারী শিশু” (দুঃখিত এর চেয়ে ভদ্র বাংলা খুঁজে পেলাম না) মূর্তিটি ১৬১৯ সাল থেকে এখানে দাঁড়িয়ে আছে, তার মানে প্রায় ৩০০ বছর ধরে এটি যদিও আসলটির রেপ্লিকা, আসলটি আছে ব্রাসেলস সিটি মিউজিয়ামে আমার পেছনের অবয়বটি বিশাল, তাই না? এটির নাম “এটোমিয়াম” এবং এটিই আজকে আমাদের শেষ গন্তব্য আর আমি আমার বিনি হারিয়ে ফেলেছি এটোমিয়ামটি ১৯৫৮ সালে বিশ্বমেলা উপলক্ষে ব্রাসেলসে নির্মাণ করা হয় বর্তমানে এটি একটি জাদুঘর এর উচ্চতা ৩৩৫ ফুট আর আছে ৯টি ৬০ফুট গোলক যা একে ওপরের সাথে সংযুক্ত একত্রে এটি একটি আয়রন স্ফটিক কোষের ১৬৫ বিলিয়ন গুণ বড় রূপ এর ভেতরে আছে সিড়ি, চলন্ত সিড়ি এবং লিফ্ট যা আপনাকে নিয়ে যাবে এক গোলক থেকে আরেক গোলোকে যেখানে আছে বিভিন্ন প্রদর্শনী হল ও অন্যান্য উন্মুক্ত এলাকা বন্ধুরা এই ছিল ব্রাসেলস থেকে আপনাদের জন্য আজকের পরিবেশনা আজ ঘুম থেকে উঠেছি রাত ৩টায় আর এখন বাজে সন্ধ্যা ৬টার কিছু বেশি, তবে সব মিলিয়ে দিন ভালোই কেটেছে আপনারা যদি এখানে এসেই পড়েন তাহলে আমার পাশের “মিনি ইউরোপ” ঘুরে দেখতে ভুলবেন না ওখানে দেখতে পাবেন ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ক্ষুদ্রকায় রেপ্লিকা যার কিছু কিছু আপনাদেরকে আমি দেখিয়েছি, ইনশাল্লাহ বাকিগুলোও দেখাবো তো আগামীকাল আমি আরেকটি নতুন দেশে যাচ্ছি, আন্দাজ করতে চান? তবে আপনার আন্দাজ কমেন্ট বক্সে লিখে ফেলুন! দেখি ঠিক ঠিক বলতে পারেন কিনা আজ এ পর্যন্তই, আমার জন্য দোয়া করবেন আগামী পর্বে দেখা হবে, যদি নতুন কোনো দেশে নাও হয় অন্তত নতুন কোনো শহরে আর সে পর্যন্ত.. Keep On Traveling!

4 thoughts on “Things To See In Brussels, Belgium In A Day \\ Muslim Traveler – The Travels Of Z (2019)

  1. Bro love your knowledge and insight on all the places you visit want to see your channel hit Millions of subs:)
    Plus belgian fries are really famous

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *